চিরন্তনী
[ প্রথম বছর শ্রীমাণিক
দিয়ে মাণিক্য পত্রিকার যাত্রা শুরু হয়। সেই থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি মাণিক্যে
শ্রীজীবনকৃষ্ণের অমৃতবাণীর একটি ছোট সংকলন ‘চিরন্তনী’ নামে পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায়
মুদ্রিত হয়। সেই বাণী একত্রিত করে মাণিক্য সমগ্রে রাখা হলো।]
- যোগ মানে
পরিবর্তন, যুক্ত হওয়া নয়।
- বিদ্বতে
বস্তুলাভ, বিবিদিষায় নয়।
- শ্রীভগবানকে
পাবার জন্য কোনো ভেকের দরকার নেই।
- দেহেতে
ভগবান।
- ধর্মে রফা চলে
না,আর ধর্মে কোন ভেলকি নেই।
- প্রাণশক্তির
স্বাভাবিক বিকাশকে বলে ধর্ম।
- দেহের মধ্যে
আত্মা সাক্ষাৎকার। বাইরে কোথাও নয়।
- নিজের দেহের
ভিতর মানুষ-রতনকে যিনি দেখেছেন আর বয়ে নিয়ে বেড়ান, তিনিই ভক্ত।
- ব্রহ্মবিদ্যার
নাশ নেই।
- মনুষ্যজন্ম
হয়েছে ব্রহ্মত্ব লাভের জন্য। এটি হলো তার বার্থরাইট।
- এক মত এক পথ।
মানুষের দেহটি একটি মাত্র পথ। আর তিনি (আত্মা, ভগবান, ব্রহ্ম) কৃপা করে সেই
মানুষ দেখে প্রকাশ পান। এই হল মত।
- আপনার মতে
যদি দেহেতে সাধন হয়, তবে ব্রহ্মজ্ঞান হয়।
- শ্রীভগবানের
কৃপা ব্যতীত তাঁকে ডাকাও যায়না।
- শ্রীভগবানের
সব ঐশ্বর্য দেহেতে ফোটে না। তিনি কৃপা করে যতটুকু ফোটান ততটুকু।
- সচিদানন্দগুরুই
সদগুরু। সৎ - অস্তি – আছেন। এই ‘সৎ’ গুরুরূপ ধারণ করে দেহীর দেহে উদয় হন।
একেই বলে সচিদানন্দগুরু লাভ।
- যাঁর দেহেতে
আত্মা প্রকাশ পাবে তাঁকে অসংখ্য নরনারী অন্তরে দর্শন করে একত্ব প্রচার করবে।
- আত্মা কি?
যাঁর ভিতর জগত আছে--আত্মার মধ্যে এই জগত দেখা যায়। মানুষের দেহে আত্মার
সাক্ষাৎকার--এই হল সনাতন।
- নরদেহ
ব্যতীত আত্মার পূর্ণপ্রকাশ আর কোথাও হয়না।
- পরিপূর্ণ
আনন্দের প্রকাশ আত্মায়, বাইরে কোথাও নেই।
- বিষয়ানন্দ
আর ব্রহ্মানন্দ, দুয়ের তুলনা হয়না। গজমোতি আর কাঁচখণ্ডে যে ফারাক সেই ফারাক।
- শ্রীভগবানকে
দেখবার জন্য, তাঁকে লাভ করবার জন্য শুধু তার কৃপা, আর কিছুর দরকার নেই।
- কৃপার আরম্ভ--সচ্চিদানন্দ
গুরুলাভ। সচ্চিদানন্দ গুরুর কৃপায় কুণ্ডলিনী জাগরণ--নানারকম আত্মিক স্ফুরণ, ও শেষে আত্মার দর্শন।
- একজনের
অনুভূতি হয়েছে, সে ইচ্ছা করলে অপরের যে সেই অনুভূতি হবে, তা হয় না।
- এ হলো ব্রহ্মবিদ্যা।
যে বিদ্যার দ্বারা আদ্যাশক্তি দেহের মধ্যে পরিবর্তিত হয়ে ব্রহ্মরূপে,
আত্মারূপে দেখা দেন। ব্রহ্মবিদ্যা শরীরে ফুটে ওঠে আর দেখতে পাওয়া যায়।
- ব্রহ্মবিদ্যার
সঙ্গে আর দেহের সুখ-দুঃখ খেটেখাওয়ার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।
- চোদ্দপোয়া
শরীরে ঈশ্বরের সব ঐশ্বর্য বিকাশ হয়না। যে সময় যা দরকার সেইটুকু প্রকাশ পায়।
- ঈশ্বর সকলকার।
- যতক্ষণ
প্রবৃত্তি ততক্ষণ যন্ত্রণা। শ্রেয় নিবৃত্তি।
- সৎপথে থেকে খেটে
খেয়ে সাধু হও। জ্ঞান ভক্তি যা কিছু হয় সমস্তই ভগবানের কৃপায়, তোমার
চেষ্টায় নয়।
- ইউরোপের,
জগতের বাইরে শ্রীভগবান--এই ধারণা। ঠাকুরের ‘ম’ আর ‘রা’। আগে ‘ম’—ইশ্বর—আত্মা,
পরে ‘রা’--আত্মার মধ্যে জগত।
- দেহেতে
ভগবান। তিনি দেহে প্রকাশ পান। এ প্রকাশ হবার কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। তাঁর
যেরকম ইচ্ছা সেইরকম ভাবে প্রকাশ পেতে পারেন--অনন্ত পথ।
- আত্মা যাঁকে
বরণ করে তাঁরই হয়। তাঁরই আদ্যাশক্তি ব্রহ্মে পরিণত হন। ভক্ত এই বরণ করাকে কৃপা
বলে।
- সচ্চিদানন্দগুরু
নির্গুণ ব্রহ্ম থেকে রূপ ধারণ করে আসেন। তিনি অজানা লোক--অর্থাৎ ভক্ত আগে
কখনো তাঁকে দেখেননি। এটি ষোলআনা সচিদানন্দগুরু লাভের একটি লক্ষণ।
- জ্ঞান মানে আত্মজ্ঞান।
জগতের মনুষ্যজাতি তোমাকে নিজের দেহের ভিতর দেখে এই আত্মজ্ঞান দান করে, “আমরা
তুমি”। জীবনেই জীবনমুক্ত। মৃত্যুর পর নয়। মৃত্যু—মহতী বিনাশ।
- ব্রহ্মত্বে তথা
একত্বে প্রতি নরনারীর সমান অধিকার।
- পরাবিদ্যার সঙ্গে
জাগতিক কোন বস্তুর সম্পর্ক নেই। পরাবিদ্যা—বিদ্যা। সর্বসিদ্ধিদায়ী মাদুলি নয়।
- সাধুর ব্যবহারিক
লক্ষণ—১) তিনি অপরে টাকা দিতে এলেও নেবেন না। ২) সাধুর কাছে কখনো মেয়ে
থাকবেনা।
- ব্রহ্মবিদ্যা
একবার লাভ হলে তার বিনাশ নেই। শ্রীভগবানের কৃপায় হয়--শ্রীভগবান কৃপা করেছেন।
- শ্রীভগবানকে
পাবার জন্য গেরুয়া পরবার দরকার নেই। তিনি দেহের ভিতরে আছেন। তিনি দেহীকে বরণ
করে কৃপা করে ফুটে ওঠেন।
- মানুষের
প্রাণশক্তি বা কুণ্ডলিনী রাজযোগের মাধ্যমে সহস্রারে অবস্থান করে শ্রীভগবান
হন। বাইরে থেকে কিছু আসে না। মানুষের সহস্রার ছাড়া শ্রীভগবানকে আর কোথাও দেখা
যায় না।
- যাঁর ব্রহ্মত্ব
লাভ হয়েছে, অসংখ্য নর-নারী তাঁকে নিজের দেহের ভেতরে দেখে বলবে, আবার যিনি এই
“বিষ্ণুত্ব” বা “পরমপদ” লাভ করেছেন তিনি আবালবৃদ্ধবনিতা সকলকে নিজের ভিতরে
দেখবেন।
- ঈশ্বর কী তা
আমরা সম্পূর্ণ জানিনা। তিনি কৃপা করে যতটুকু জানান--ততটুকু।
- নির্গুণ নিত্য—সগুণও নিত্য।
সবই নিত্য--বিচ্ছেদহীন অবস্থায় রয়েছে।
- ধর্ম ওই ‘আকাশ’ নিয়ে নয়।
ধর্ম জীবন্ত মানুষে। মনুষ্যজাতি শাশ্বত। ধর্ম রাজযোগের উপর স্থিতিলাভ করে, আর
যোগের বিভূতি দেহেতে প্রকাশ পায়।
- জীব, আত্মা, আমি--তিনটি যেন
আলাদা বস্তু। না, তা নয়। শুধু বোঝাবার জন্য ভাগ দেখানো হয়েছে। জীব অহংনাশের
পর আত্মায় পরিণত হন।
- মৃত্যুকালে কিংবা মৃত্যুর পর
মুক্তি--এর চেয়ে বড় ধাপ্পা আর কিছু হতে পারে না। লোকঠকানো কথা আর কিছু হতে
পারেনা।
- ধর্মের প্রমাণ আছে। ধর্মের
ঢাক আপনি বাজে।
- বিশ্বব্যাপিত্বই এর প্রমাণ--আর
হয় জীবদ্দশায়। মৃত্যুকালে কিংবা মৃত্যুর পরে নয়।
- জগতের অসংখ্য নর-নারী যখন
একটি লোককে অন্তরে দর্শন করে সেই কথা প্রকাশ করে তখন বুঝতে হবে সেই লোকটির অহং
নাশ হয়েছে। তিনি জগদব্যাপী হয়েছেন।
- নিজেকে কোনো বিশেষ ধর্মাবলম্বী
বলে পরিচিত কোনো ব্যক্তির এই বিশ্বব্যাপিত্ব প্রচার করবার অধিকার নেই।
- স্বপ্ন ও জাগরণে কোনো ফারাক
নেই। শুদ্ধ মন হলে তবে বুঝতে পারা যায়।
- ভগবান দূর আকাশের কোলে নয়। ইউরোপের দার্শনিক পণ্ডিতদের জগতের বাইরে
ভগবান নয়, তিনি এই দেহের ভিতর। আত্মার মধ্যে জগত। বাইরে আমিরূপ আরশিতে সেই
জগতের প্রতিবিম্ব দেখছি।
- ত্যাগ হয়েছে তার লক্ষণ কুণ্ডলিনী জাগরণ।
এই কুণ্ডলিনী জাগরণের ক্্র ক্্র্র। হলে তবে ষোলআনা ঈশ্বর দর্শন
ও ক্রমে ঈশ্বরলাভ।
- দেহের একটি তবুও যদি
ক্ষতিগ্রস্থ হয় তাহলে আর ষোলআনা আত্মা সংকলিত হয় না ।
- জ্ঞানী মিথ্যার খেলা খেলতে
পারেনা সংসার নিয়ে থাকা মিথ্যার খেলা তিনি জ্ঞানী নন তাঁর দেহ আর আত্মা
আলাদা হয়নি তাহলে ছেলেপুলে হতো না ।
- জ্ঞান মানে আত্মজ্ঞানই জগতের
মনুষ্যজাতি তোমাকে নিজেদের দেহের ভেতর দেখে এই অর্থ জ্ঞান দান করে আমরা তুমি
সমস্তই তাদের ওপর নির্ভর তোমার উপর নয় ।
- জ্ঞানী আত্মিক 1 উত্তর আরে
কতই জ্ঞান।
- সহস্রা রে প্রাণবায়ু শেষ
সূর্য মন্ডল আর এই সূর্য মন্ডল এর মধ্যে মানুষের রূপে পরমাত্মা পরম ব্রহ্মা
যদি লাভ হয় তাহলে কতগুলি নর-নারী তাকে সূর্য মন্ডলে দেখতে পায় আর তারা এসে
কথা বলে।
- 14 মানুষের ভেতরে বিরাট
বিশ্বসংসার ভগবান সৃষ্টি স্থিতি নিজেকে বোঝাবেন সেই বুঝবে জানবে দেখবে।
- ঈশ্বরকে না দেখলে ভালোবাসা
জন্মায় না তিনটি অবস্থার দরকার তা না হলে ভালোবাসা জন্মাবে না তিনি কৃপা করে
সচিদানন্দ গুরুরূপে ভক্তকে পালন করবেন তবে কুণ্ডলিনী জাগ্রত হবে এটি দ্বিতীয়
কুণ্ডলিনী জাগরণ না হলে আক্তার সংকলিত সাক্ষাৎকার হয় না।
- ভগবানের প্রকাশ ভূমিতেও থাকতে
পারেন আবার অবতীর্ণ হতে পারেন সমস্তই তাঁর ইচ্ছা।
- ইউরোপে কোন মানুষের দেহে
ভগবান অবতীর্ণ হন নি ভাষার মধ্যে অভাবী যথেষ্ট প্রমাণ ইউরোপের লোকেরা অবতার
জানেনা।
- বহির্জগতের দৃষ্টি সেই দৃষ্টি
গুটিয়ে আবদ্ধ হলে তবে যোগ হয় যোগীর দৃষ্টিতে আন্তধর্ম।
- এই দেহের উপর ভিত্তি করে
বিশ্বব্যাপী হয় আর এই বিশ্বব্যাপী তার প্রমাণ দেয় মনুষ্যজাতি আনুমানিক নয়
মনে হওয়ার নয় আমাকে তোমার কি মনে হয় এরকম নয় অন্তর চোখে সপরিবারে দেখে
বলে ।
- ভগবানের কৃপা ব্যতীত তাকে
ডাকা যায়না।
- চেষ্টায় শ্রীভগবান লাভ নয়
মুক্তির উপায় ভগবান হয় হয় আপনা আপনি হয় তিনি শুধুমাত্র ।
- ভগবান তিনি কৃপা করে যদি
প্রকাশ হলো দরকার নেই আর সমুদ্রের ধারে নির্যন্দিন অন এই।
- মন যখন শুরু হয় তখন শুধু
আপনার সঙ্গে এক হয়ে যায় আর তার মধ্যেই শুদ্ধ-অশুদ্ধ বুদ্ধি আর তার
সাক্ষাৎকার সাক্ষাৎকার না হলে বোঝা দুরূহ।
- যদি হয়ে থাকে তাহলে তার
সাক্ষাৎকার ও পূর্ণব্রহ্ম হয়েছে।
- নারী শিশু বৃদ্ধ ও তার বলবে
জগতের নারী সাক্ষাৎকারের প্রমাণ দেয় চোর থাকলেই গৃহস্বামী আছে গৃহস্বামী
অধিকার অধিকার নেই মা নেই এই রঙের দান করছেন।
- একত্ব ই একমাত্র আনন্দের উৎস
অবশ্য বহুতে একত্ব।
- ওতপ্রোতভাবে দেহের সঙ্গে
রয়েছেন। অচ্ছেদ্য ভাবে রয়েছেন।
- নির্গুণ থেকে সগুন সচিদানন্দ
গ্রুপ থেকে নির্গুণ দুটি অবস্থা সমাধি আলোচিত-সমালোচিত সমাধি তাদের দেহ পুড়ে
যায়।
- পঞ্চ ঘোষের বেদের সাধনা হতে
দেহের মধ্যে হবে তবে আর তার সাক্ষাৎকার ।
- সাথে পরিবর্তিত হওয়া আর শক্ত
হয়ে যাওয়া এই হল সাধুসঙ্গ।
- ঈশ্বর শ্রীভগবান এই জগত রূপে
প্রকাশ করেছেন দেহের ভিতর আত্মায় আমি এখন ভিতর আমি যখন বাইরে তখন সামনে জগত
ঈশ্বর ভগবান শ্রী ভগবান 199999।
- অনুমানের নয় বাস্তবে তা নইলে
মুক্তির স্বপ্ন মাত্র একটি অতি মনোরম ।
- কি কি খাওয়া চলবে না।
- ভারতের বর্তমান ভারতের যদি
মনুষ্যজাতির সর্বশ্রেষ্ঠ গৌরবের দান কিছু থাকে সেই হলো এই ব্রহ্মত্ব আত্মিক
একত্ব।
No comments:
Post a Comment