Wednesday, May 25, 2022

ব্রহ্মত্ব তথা বহুত্বে একত্ব

 ব্রহ্মত্ব তথা বহুত্বে একত্ব

অহং ব্রহ্মাস্মি
তৎ ত্বমসি
ত্বং স্ত্রী ত্বং পুমানসি ত্বং পুমানসি
ত্বং কুমার উত বা কুমারী
ত্বং জীর্ণ দণ্ডেন বঞ্চসি
ত্বং জাতো ভবসি বিশ্বতোমুখঃ।

বন্দনা করি আমার আমি ব্রহ্মরূপী জগতের মনুষ্য জাতিকে - তথা সমবেত ভদ্রমহোদয়া ও ভদ্রমহোদয়গণকে।

 আমি ব্রহ্ম।

আমার সন্তান তৎক্ষণাৎ আমাকে প্রশ্ন করবে, পিতা আমি তাহলে কে? স্মরণাতীত অতীতের অপূর্ব এক অদ্ভুত পরিবর্তনকারী মুহূর্তে পিতা উদ্দালক পুত্র শ্বেতকেতুকে অকম্পিিত স্থির উদাত্ত কণ্ঠে ঘোষণা করলেন, ত্বৎ ত্বহম। পিতা-পুত্রের চমৎকার ভাাগবাটোয়ারা হয়ে গেল।

 জগতের কোটি কোটি কন্ঠে ধ্বনি উঠল,  প্রমাণ চাই এই ব্রহ্মত্বের।  উদ্দালকের গম্ভীর স্বর আরো গম্ভীর হলো, কিন্তু প্রতি অক্ষরের সেই মধুশ্রাবী ঝঙ্কার বেজে উঠলো, ব্রহ্মত্বের কন্ঠবীণা গুঞ্জরিয়া উঠিল তথা জগত শুনল:-

ত্বং স্ত্রী ত্বং পুমানসি ত্বং পুমানসি
ত্বং কুমার উত বা কুমারী
ত্বং জীর্ণ দণ্ডেন বঞ্চসি
ত্বং জাতো ভবসি বিশ্বতোমুখঃ।

 এর সরল অর্থ:-
 ওগো তোমারই ব্রহ্মত্ব লাভ হোক, তখন সংখ্যাতীত স্ত্রী-পুরুষ কুমার কুমারী জরাজীর্ণ বৃদ্ধ, এক কথায় বিশ্ববাসী নর-নারী তাদের দেহের ভিতর তোমায় চিন্ময়রূপে দেখবে। 
জৈমিনি বলেছেন, বিশ হাজার হলেও হবে না। অর্থাৎ "তাঁর রূপ ফুটে উঠে হাজার হাজার মানুষের অন্তরে। তাঁকে স্বপ্নে ধ্যানে জাগ্রত অবস্থায় ট্রান্সে দেখে আবালবৃদ্ধবনিতা। তাঁকে দেখে হিন্দু দেখে মুসলমান দেখে খ্রিস্টান দেখে পার্শী দেখে  ইহুদি দেখে ভারতবাসী আবার বিদেশী। 
তাঁর কাছে যাঁরা আসেন তাঁদের মধ্যে কেউ ধনী কেউ দরিদ্র  কেউ শিক্ষিত কেউবা নিরক্ষর। তাঁর কাছে আসার পর যেমন লোকে তাঁকে দেখতে শুরু করে তেমনি আবার তাঁকে না দেখে তাঁকে না জেনে তাঁর কথা না শুনেও বহু লোক তাঁকে দেখেছে; আর তাঁদের সংখ্যাই হল বেশি। পরে ঘটনাচক্রে তারা এসেছে তাঁর কাছে-কথাপ্রসঙ্গে নিবেদন করেছে তাদের পূর্ব দর্শনের কথা। তাঁর কাছে মেয়েদের আসতে দেওয়া হয় না। তবুও তাঁরা রাজযোগের মাধ্যমে ঘরে থেকেই তাঁকে দেখে। বাড়ির কোনো একজন লোক তাঁর কাছে এলো। সে লোকটি তাঁকে স্বপ্ন দেখতে শুরু করলো।
 ধীরে ধীরে তাঁকে দেখা শুরু হয়ে গেল সে বাড়িতে। আবার কখনও কখনও বাড়ির কর্তা, যিনি তাঁর কাছে এসেছেন তিনি দেখেন পরে, বাড়ির মেয়েরা ঘরে বসেই তাঁকে দেখেন আগে। বাপ মা ভাই বোন স্বামী স্ত্রী ছেলে মেয়ে সকলেই তাঁকে দেখতে থাকে, দাসদাসীরাও বাদ পড়ে না। পিতামহ দেখেন, পিতা দেখেন, পৌত্রও দেখে তাঁকে। কোনো ভেদাভেদ নেই কোনো গণ্ডীও নেই। তাঁকে দেখবার জন্য শুধু প্রয়োজন হল মনুষ্য দেহ।"

এই হল মানুষের ব্রহ্মত্ব লাভের বাস্তব প্রমান সমেত জীবন্ত উদাহরণ। আবার অযুত কণ্ঠধ্বনি উঠবে, "কেমন করে ব্রহ্মত্ব লাভ হয়? ব্রহ্মত্ব লাভের উপায় কী?" এখনো ঋষিদের অতীতের সেই অনুভূতিমূলক কথা (ঋতম)। বেদান্ত আবার সেই স্নেহবিগলিত প্রেমাভিষিক্ত মধুক্ষরা কন্ঠে গুঞ্জরিয়া উঠলো 

এবম এষ সম্প্রসাদ 
অস্মাত শরীরাত সমুত্থায়
পরমজ্যোতি উপসম্পদ্য
স্বেন রূপেন অভিনিষ্পদ্যতে
সঃ উত্তমপুরুষ 

এই সেই একমাত্র পন্থা মানুষের অন্তর্নিহিত ব্রহ্মত্ব বিকাশের - সেটি হলো মানুষের এই দেহ আর আপনা হতে (স্পন্টেনিয়াস ) 


এই ভ্রমণে জাতি ধর্মের বিচার নেই পাত্র-পাত্রী প্রশ্ন নেই নেই দেশকালের কোন শৃংখল এই মুহূর্তে জগতের প্রতি মানুষের জন্মগত অধিকার যখন একজন মানুষ জন্মগ্রহণ করে তখন জন্মের সঙ্গে সে বহন করে আনি গ্রন্থকে উপরোক্ত শ্লোকের অর্থ হল এইরকম এই সেই জীব অর্থাৎ মানুষ নিজের শরীর থেকে উত্থিত হয়ে সহস্রারে পরম জ্যোতি অর্থাৎ গ্রম্বর্ত লাভ করে নিজের দেহের চিহ্নরূপে' সংখ্যাতীত নর-নারীর অন্তরে তথা সম্পাদ্য আবির্ভাব অর্থাৎ আবির্ভূত হন মনুষ্য জাতি তাকে অন্তর দেখে জগতকে জানিয়ে দেয় সং উত্তম পুরুষ মানুষ তথা মানুষ ব্রম্ভ তথা অন্তর্জগতে আমরা সকলে এক আত্মিক ইউনিটি ইন ডাইভারসিটি কিন্তু অন্তরে আসক্তি একটি উদাহরণ একটি কিন্তু সেই অমৃত বৃক্ষের অমৃতফল সংখ্যাটির নর নারী শিশু বৃদ্ধ আস্বাদন করে তারাই ফল লাভ করে বিনামূল্যে কোন মূল্য দিতে হয় না আপনা হতে ব্রহ্মত্ব লাভ করে শাস্ত্র প্রণেতা পতঞ্জলি তাদের উদাহরণ দিয়েছেন আকাশে এক চন্দ্র সংখ্যাটিতে জলাশয় পৃথিবীতে প্রতি জলাশয় প্রতিবিম্ব চন্দ্র এই প্রতিবিম্ব চন্দ্র আকাশের চন্দ্র রায় তথা ব্রহ্মোত্তর লাভকারী মানুষটির অস্ত্রশস্ত্র নর নারীর অন্তর্ভুক্তি সেও হলোগ্রম হতে বলেছেন আফসারী কোয়ালিটি অ্যাপস ট্রাক ইকোয়ালিটি এই বাস্তব জীবন তো নিজেই বলেছে এক ঈশ্বর তত্ত্ব সর্বপ্রথম

স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন একা আমি ওই বহু দেখিতে আপন গ্রুপ রিলিজিয়ান আর কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ বলেছেন আমাদের অন্তরে এমন কেউ আছেন যিনি মানব অথচ তিনি ব্যক্তিগত মানব কে অতিক্রম করে সাদা জননাঙ্গ হৃদয়ে সন্নিবিষ্ট তিনি সর্বজনীন সর্বকালীন উপনিষদের পূর্ব কথিত মনুষ্যত্ব বিকাশের প্রমাণ সমেত মন্ত্রটি বিভাগ আছে এক এই সেই জীব মানুষ তিনি সাধারণ মানুষ নন প্রসাদ অর্থাৎ প্রসন্নতা প্রাপ্ত মানুষ এখানে প্রশ্ন কে কার উপর প্রসন্ন প্রতি মানুষের সহস্রারে ব্রহ্মপুর সেই ব্রহ্মপুর থেকে ব্রম্ভ অজানা মানুষের রূপ ধারণ করে চিনময় শরীরে সেই মানুষটির কাছ এসে সমগ্র রাজ্য শিক্ষা দিয়ে তার সাথী হয়ে ব্রম্ভ ফুঁড়ে নিয়ে যান আর তথায় অর্থাৎ সহস্রারে সাক্ষাৎকার করান বড় প্রশ্ন হয়ে আবির্ভূত হন আর রংপুরে নিয়ে জানা-অজানা তাই সাথি সাথি হল চিন্ময়ী রূপ ধারী আর দেহের মধ্যে এই অচিন্তনীয় ঘটনা ঘটে তিনি হলেন সম্প্রসারণ ভাষায় বলে আর তাকে বরণ করে তারই হয় বেদান্ত বলছেন জমিয়ে বৈরুতে তেনোলোক বিশেষ উল্লেখযোগ্য হলো সমস্ত সাধন অনুভূতিগুলি আপনা হতেই হয় স্পন্টেনিয়াস 28 মার্চ সংখ্যায় এই শরীর হতে উদ্ধৃত করে সম্প্রসারণে প্রসাদ প্রাপ্ত মানুষ বিকাশের জন্য মূলাধার হতে সহস্রারে তথা ব্রহ্মপুর এ চলেছেন সেই ব্রহ্মপুর থেকে এসেছিলেন সচিদানন্দ বিগ্রহ তিনি সমগ্র রাজ্য শিক্ষা দিয়েছিলেন এ কল্পনা নয় দেখতে পাওয়া যায় দেহের ভিতর তাই সম্প্রদায় ঊর্ধ্বগামী পঞ্চমী অতিক্রম করে সহস্রারে পরিবর্তিত হবার জন্য অর্থাৎ রোমহর্ষক বিকাশের জন্য ব্রহ্মপুর আগত অফুরন্ত অনুভূতি এই পঞ্চমী অতিক্রম কালীন অবস্থায় সময় লাগে দীর্ঘ বারো বছরের কিছুতেই সুদীর্ঘকাল সাক্ষাৎকারের অনুভূতি সমূহের কাহিনী অন্য সময় বিবৃত পূর্ব পর্যন্ত অর্থাৎ শব্দটি প্রাপ্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে সম্প্রসারণ হত লাভ হয়েছে এই অবস্থাতেই বলে আত্মা বা ভগবান বা ব্রম্ভ সাক্ষাৎকার সাক্ষাৎকার এর অবস্থাকে বলে ক্রিটি অর্থাৎ জ্ঞান জ্ঞান ফাদার এন্ড অপূর্ব সাক্ষাৎকার সমুদ্র শুধু যদি আর যদি এই জ্যোতিসমুদ্র দাঁড়িয়েছেন ব্রহ্মপুর থেকে আগত সেই পূর্বপরিচিত সচ্চিদানন্দ বিগ্রহ তিনি তার দক্ষিণ হস্ত উত্তোলন করে অঙ্গুলিনির্দেশ দেখালেন অতি সূক্ষ্ম নীল রেখা দ্বারা সীমান্ত বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ জ্যোতিকে আর বললেন এই ভগবান নেই ভগবান দর্শন আর পরক্ষণেই লিংক হয়ে গেলেন ওই বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ পদ্ধতির মধ্যে আর আমি আমি তখন ওই আটটার মধ্যেই আমি তখন একসঙ্গে বিজড়িত তার মধ্যে থেকেই আমি শুনছিলাম আমি দেখছিলাম তারপর জ্ঞান ও কাকা 31 হয়ে গেল এই হল সহস্রারে আত্মা ভগবান বাবুর সাক্ষাৎকার এই দর্শনের অতুলনীয় প্রমাণের কথা শ্রুতি দাড়ি পুনরায় বলছেন চতুর্থ শ্রেণী অভি নিষ্পত্তি বলেছেন তোমার যদি পরম জাতীয় সম্পদ দেশটিতে ইন্ডিভিজুয়াল লাইফ লাভ হয়ে থাকে তবে বিশ্বব্যাপী তোমার জীবন দশায় সহশ্র সহশ্র নর নারী শিশু বৃদ্ধ অন্তরে তোমার চিবুক দর্শন করে তোমার তথা বিশ্বের মানুষ ও জাতিকে জানিয়ে দেবে বিশ্বকে অর্থাৎ ইউনিভার্সাল 

No comments:

Post a Comment

শ্রীজীবনকৃষ্ণের অমৃত কথাসার প্রথম অংশ

১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সালের কিছু কথা সংকলিত করা হয়েছে শ্রীজীবনকৃষ্ণ সংশ্রয় থেকে। যেহেতু সেখানে দিনলিপিতে তারিখের উল্লেখ নেই, তাই এখানে তারিখের উল্ল...